‘নাসার কয়েন’ কিনতে গিয়ে ঢাকার শিল্পপতি খোয়ালেন কোটি টাকা

মা’র্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কয়েন কিনে আবার তা বিক্রি করলে মুনাফা হতে পারে কয়েক কোটি টাকা। এমন লো’ভ দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা হা'তিয়ে নিয়েছে একটি প্র'তারক চক্র। তবে শেষ র'ক্ষা হয়নি। প্র'তারকরা হা'তেনাতে ধ’রা পড়েছে পিবিআ'ইয়ের জা'লে।

স'ম্প্র'তি এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রে’ফতার করেছে ত’দন্তকারী সংস্থা পু’লিশ ব্যুরো অব ই’নভেস্টিগেশন (পিবিআ'ই)। গ্রে’ফতারকৃত'দের কাছ থেকে ধাতব কয়েন, নগদ টাকাস'হ বিভিন্ন সরঞ্জাম জ’ব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার রা'জধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে পিবিআ'ই-এর সদর দফতরে এক সংবাদ স'ম্মেলনে এস’ব তথ্য জা'নানো হয়।

পিবিআ'ই জা'নায়, পুরোনো ধাতব মুদ্রা, ট’ক্কর (এক প্রকার গিরগিটি) এবং সীমা'ন্ত পি'লারকে এই প্র'তারক চক্রের সদস্যরা মূল্যবান বস্তু হিসেবে উ'পস্থাপন করে। সেগুলো বিক্রির নাম করে কোটি কোটি টাকা হা'তিয়ে নিতো তারা। প্র'তারক চক্র দা'বি করত যে, পুরোনো এস’ব ধাতব প'দার্থ নাসায় গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন দেশ থেকে ধাতব মুদ্রা চড়া দামে নাসা কিনে নেয় এবং এগুলো বিক্রি করে কয়েক মি’লিয়ন ড'লার পাওয়া স'ম্ভব। আর এই ফাঁ'দেই পা দিত অনেকে।

ঘ'টনার বর্ণনায় বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরে এ প্র'তারণার ঘ'টনা ঘ'টে। এর প্রায় বছর খানিক আ'গে প্র'তারক চক্রের এক সদস্যের স’ঙ্গে প'রিচয় হয় আনন্দ গ্রুপ নামে একটি ব্যবসায়ী প্র'তিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের স’ঙ্গে। ওই ব্য’ক্তি আরেক ব্য’ক্তিকে নিয়ে এসে আনন্দ গ্রুপের চেয়ারম্যানের স’ঙ্গে প'রিচয় করিয়ে দেয়, যার প'রিচয় হিসেবে বলা হয় যে তিনি পৃথিবী ঘুরে বেড়ান। বর্তমা'নে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে তার ব্যবসা প'রিচালনা করেন। এছা'ড়া ব্যবসায়িক কাজে তিনি কুয়েত, স্পেন, দুবাই, মালয়েশিয়া, ল'ন্ডন – এস’ব জায়গায় ঘুরে বেড়ান ব'লেও দা'বি করা হয়।

পিবিআ'ই প্রধান বনজ কু'মা’র মজুম’দার জা'নান, তারা ত’দন্ত করে জানতে পেরেছেন যে আসলে দ্বি'তীয় ওই ব্য’ক্তি এসএসসি পাস এবং পেশায় একজ'ন পেয়ারা ব্যবসায়ী। একপ'র্যায়ে দ্বি'তীয় ব্য’ক্তি ব্যবসায়ীকে ব'লেন যে, তার কাছে একজ'ন ক্রেতা আ'ছেন, যিনি নাসা’স'হ বিভিন্ন সংস্থার স’ঙ্গে জ'ড়িত। তিনি বিদেশে থাকেন, তবে পুরোনো ধাতব মুদ্রা কিনতে চান।

আর এমন একজ'ন বিক্রেতা রয়েছেন, যিনি সীমা'ন্ত এ'লাকায় থাকেন এবং ভা’রত থেকে এস’ব জিনিসে নিয়ে আসেন। পুরো লেনদেনটি যেহেতু মি’লিয়ন ড'লারের ব্যা'পার, তাই আনন্দ গ্রুপের ওই ব্য’ক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অ'নুমতি চাওয়া হয়।

বনজ মজুম’দার জা'নান, যে ব্য’ক্তিকে ক্রেতা হিসেবে প'রিচয় দেয়া হয়েছে, তিনি আসলে একজ'ন শাড়ি ব্যবসায়ী। আর যে ব্য’ক্তি বিক্রেতা, তিনি পশ্চিমাঞ্চলীয় জে’লা ঝিনাইদহে একটি বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন।

এই চক্রের আরেক সদস্য, যাকে মুদ্রার ক্রেতার ব্য’ক্তিগত স'চিব বা পিএস হিসেবে প'রিচয় করিয়ে দেয়া হয়, তিনি আসলে টুকরো কাপড় ঝুটে'র ব্যবসায়ী ব'লে জা'নায় পিবিআ'ই।

পিবিআ'ই বলছে, এই ঘ'টনার প'র প্র'তারণার শি’কার ব্য’ক্তির পক্ষ হয়ে কাজ করছেন এমন একজ'নকে স’ঙ্গে নিয়ে প্র'তারক ব্য’ক্তিটি ক্রেতা সেজে চুয়াডাঙ্গায় যায় ধাতব মুদ্রাটি দেখতে। সেখানে তাদের একটি ভল্ট এবং একটি টেকনিক্যাল রুম দেখানো হয়।

আর তখন পুরো বি'ষয়টি বি'শ্বা’স করতে শুরু করে প্র'তারকের টা'র্গেটরা। মুদ্রাটির দাম ধ’রা হয় ১০ কোটি টাকা। যে ব্য’ক্তি মুদ্রাটি কিনবেন, তিনি তখন সাড়ে আট কোটি টাকার একটি চেক দেন বিক্রেতাকে। তবে বাকি দেড় কোটি টাকা তার কাছে নেই ব'লে জা'নালে ঝিনাইদহে বসে সেই টাকা দিয়ে দেন আনন্দ গ্রুপের পক্ষে এক ক'র্মক'’র্তা।

প'রে কয়েনটি নিয়ে চ'লে যান আনন্দ গ্রুপের ওই ক'র্মক'’র্তা। এর তিন দিন প'র যিনি কয়েনটি বিক্রি করেছিলেন, তিনি প্র'তিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানকে জা'নান তারা যে কয়েনটি কিনেছেন সেটি আসল নয়, নক'ল। তবে আসল কয়েনটি তার কাছে রয়েছে এবং সেটি পেতে হলে ১০ কোটি টাকা দিতে হবে।

তখন প্র'তিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বুঝতে পারেন যে, পুরো বি'ষয়টি ভুয়া, এর স’ঙ্গে সংশ্লিষ্ট স’বাই পূর্ব-প'রিচিত এবং এরা কেউই মা’র্কিন নাগরিক কিংবা নাসার সদস্য নয়। প'রে চলতি মা'সের ৬ তারিখ প্র'তিষ্ঠানটির মহাব্য'বস্থাপক বা'দী হয়ে ঝিনাইদহের সদর থা’নায় মা’মলা করেন। এই মা’মলার ত’দন্তের দায়িত্ব পিবিআ'ইকে দেয়া হলে তারা এই অ’ভিনব কায়দায় প্র'তারণার বি'ষয়টি জানতে পারে।

এর ত’দন্তের জের ধ'রে যশোর, ঝিনাইদহ ও ঢাকা থেকে পাঁচজ'ন অ’ভিযু’ক্তকে গ্রে’প্তার করা হয়। এ স'ময় তাদের কাছ থেকে একটি ভল্ট, দু’টি পুরোনো মুদ্রা বা কয়েন, নগদ টাকা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উ’দ্ধা'র করা হয় ব'লে পিবিআ'ই জানিয়েছে।

পিবিআ'ই প্রধান বনজ কু'মা’র মজুম’দার ব'লেন, এরা এত লাভ দেখায় এবং মা'নুষ এমন স'ম্মোহনের মধ্যে পড়ে যায় যে স'ম্পূর্ণরূপে প্র'তারিত হওয়ার আ'গ প'র্যন্ত এরা বুঝতে পারে না। এমনকি প্র'তারণার শি’কার হওয়ার অনেক দিন প'রও বুঝতে পারে না। আর যখন বুঝতে পারে তখন ল'জ্জায় কাউকে ব'লেও না।

এই চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অ’ভিযান চলছে ব'লেও জা'নানো হয়। এদিকে, একই সংবাদ স'ম্মেলনে আরেকটি চক্রের তিন সদস্যকে আ’ট’ক করার ক'থা জা'নানো হয়, যারা আয়ারল্যান্ডের ভিসা পাইয়ে দেয়ার ক'থা ব'লে কোটি কোটি টাকা হা'তিয়ে নিয়েছে ব'লে অ’ভিযোগে রয়েছে।