সালাম দিলে দুনিয়াতেই মিলবে যে ৪ উপকার

সালাম হোক মুমিন মুসলমা'নের অ’ভিভাদনের একমাত্র মাধ্যম। সুন্নাতই হোক জীবন প'রিচালনা একমাত্র উৎস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোম'রা মা'নুষকে খাওয়াবে আর চেনা-অচেনা স’বাইকে সালাম দেবে।’ সালাম দেয়া নবি'র সুন্নাত ও নি'র্দেশ। আর সালামে বাধা দেয়া শয়তানের কাজ। কারণ সালাম-এর ৪ ধরনের উপকারিতা থেকে বি'রত রাখতেই শয়তান মা'নুষকে সালাম দিতে নিরুৎসাহিত করে।

সালাম কেন দেবেন? আল্লাহ তাআলা সালাম দিতে ব'লেছেন। বি'শ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাম দেয়ার ক'থা ব'লেছেন। কিন্তু কখন এ সালাম দেবেন? যখন কারও স’ঙ্গে দেখা হয় তখন সালাম দিতে হয়। এ সালাম দেয়া রয়েছে অনেক উপকার ও সাওয়াব।

শুধু দেখা-সাক্ষাতেই সালাম সীমাবদ্ধ নয় বরং কারো স’ঙ্গে দেখা করার জ'ন্য তার বা'ড়িতে গিয়ে ঘ'রে প্র'বেশের আ'গে সালাম দেয়া জ'রুরি। আবার বা'হিরের কাজ শেষে নিজ বা'ড়িতে গিয়ে ঘ'রে প্র'বেশের স'ময় সালাম দেয়া। সালাম দেয়া প্রস’ঙ্গে আল্লাহ তাআলা ব'লেন- فَإِذَا دَخَلْتُم بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُون

অতপ'র যখন তোম'রা ঘ'রে প্র'বেশ কর, তখন তোমাদের স্বজ'নদের প্র'তি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে ক'ল্যাণময় ও পবি'ত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জ'ন্যে আয়াতস'মূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোম'রা বুঝে নাও। [ সুরা নুর ২৪:৬১ ]

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা সালামকে ক'ল্যাণ ও পবি'ত্রতার দোয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় সালামের অনেক উপকারিতার ক'থা উঠে এসেছে। হাদিসের বর্ণনায় সেগুলো হলো-

> সালামে বরকত লাভ হয় হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ব'লেছেন, ‘হে বৎস! তুমি যখন তোমা’র প'রিবার-প'রিজ'নের কাছে যাবে, তখন সালাম দেবে। তাতে তোমা’র ও তোমা’র প'রিবার-প'রিজ'নের ক'ল্যাণ হবে।’ (তিরমিজি)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসে নিজ প'রিবার-প'রিজ'নকে সালাম দেয়ার ক'থা ব'লেছেন। স্বা'মী তার স্ত্রী, স'ন্তা'ন, বা'বা, মা, ভাই, বোনকে সালাম দেবে। আবার স্ত্রীও প'রিবেরর লো'কদের সালাম দেবে। স'ন্তা'ন-স'ন্তুতিও তার বা'বা-মা এবং প'রিবারের ছোট-বড়দের সালাম দেবে, তাদের প্র'তি আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত তথা ক'ল্যাণ নেমে আস’বে।

> সালামকারীকে আল্লাহ হেফাজত করেন আল্লাহ তাআলা সালামের প্রচলকারীর জ'ন্য জি'ম্মাদার হয়ে যান। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব'লেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা তিন শ্রেণির লো'কের জি'ম্মাদার হন-

– যে ব্য’ক্তি সালাম দিয়ে তার বা'ড়িতে প্র'বেশ করে। অর্থাৎ ঘ'রে স্ত্রী, স'ন্তা'ন, বা'বা-মা, ভাই-বোন, ছোট-বড় যেই থাকুক না কেন; তাদের সালাম দিয়ে ঘ'রে প্র'বেশ করে। আল্লাহ তাআলা ওই বা'ড়িকে ওই ব্য’ক্তিকে হেফাজত করেন।’ (আ'দাবুল মুফরাদ)

> সালাম দিলে সাওয়াব হয় প'রস্প'র সাক্ষাতে সালাম বিনিময়ে রয়েছে অনেক সাওয়াব। সালামের সাওয়াব লাভের নমুনা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে পাকে উঠে এসেছে- হজরত ইম'রান ইবনু হুসাই’ন রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একবার এক ব্য’ক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন,

‘আসসালামু আলাইকুম’। তখন তিনি বললেন, লো'কটির জ'ন্য ১০টি নেকি লেখা হয়েছে। এরপ'র অন্য এক ব্য’ক্তি এসে (একটু বা'ড়িয়ে) বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা ‘। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, তার জ'ন্য ২০টি নেকি লেখা হয়েছে।

এরপ'র অন্য এক ব্য’ক্তি এসে (আরও একটি শব্দ বা'ড়িয়ে) বললেন- ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু’। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার (সালামের) উত্তর দিয়ে বললেন, লো'কটির জ'ন্য ৩০টি নেকি লেখা হয়েছে।’ (তালিকুর রাগিব, তিরমিজি, আবু দাউদ, মুস'নাদে আ'হমদ, মেশকাত)

> সালাম হলো দোয়া প'রস্প'রের সালাম বিনিময় বা একে অ'প'রকে অ’ভিভাদন করাটা মূলত দোয়া। সালামের অর্থের দিকে তাকালেই বি'ষয়টি প'রিষ্কা’র হয়ে যায়। সালামের মাধ্যমে কি বলা হয়? সালামে বলা-

– السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ অর্থাৎ আ'পনার উপ'র শান্তি বর্ষিত হোক। এটি একটি দোয়া। আর সালামের উত্তরে বলা হয়- وَعَلَيْكُمُ السَّلاَم অর্থাৎ আ'পনারও উপ'র শান্তি বর্ষিত হোক। এটি একটি দোয়া। সালামকারী যেভাবে দোয়া করে, সালামের উত্তরদানকারীও সালাম প্রদানকারীর জ'ন্য এভাবে দোয়া করে। এভাবে সালামের মাধ্যমে মা'নুষ একে অ'প'রের জ'ন্য শান্তির দোয়া করে।

মা'নুষ যখন ব্য’ক্তি, প'রিবার ও স'মাজের প'রিচিত'দের মধ্যে বার বার সালামের ব্যা'পক প্রচলন করবে, বার বার সালাম দিতে থাকবে। আর আল্লাহ তাআলা বারবার সালাম দেয়ার মধ্য থেকে একবারের দোয়া কবুল করে নেয়, তাতেই সালামের আ'দান-প্রদান স্বার্থক হবে।

বান্দা জীবনের স’ব কাজে পাবে বরকত, হেফাজত, সাওয়াব ও দোয়া। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সালামের গু’রুত্ব বোঝার তাওফিক দান করুন। সালামের মাধ্যমে বরকত লাভ, হেফাজত লাভ ও সাওয়াব লাভ এবং দোয়া কবুল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।