আপেলের সবচেয়ে বেশি উপকারী অংশটি ফেলে দিচ্ছেন না তো?

খুবই সহজলভ্য একটি ফল হচ্ছে আপেল। দামেও সস্তা। তবে এর রয়েছে অসাধারণ গুণ। কথায় আছে, প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের অনেক রো’গ থেকেই দূ’রে রাখে এই সুস্বাদু ফলটি।

ফাইবার, পুষ্টি এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ আপেল দ্রুত ক্ষুধা মে’টাতে কিংবা শ’রীরচর্চার পর দ্রুত শ’ক্তি যোগাতে খুবই উপকারী। তাইতো সকালের খাবার কিংবা টিফিনের জন্য আপেল দারুণ উপযোগী।। তবে অ’বাক করা বিষয় হচ্ছে যে, আম’রা আপেলের সবচেয়ে বেশি স্বা’স্থ্যকর অংশটিই ফে’লে দেই! চলুন এই বিষয়ে বি’স্তারিত জে’নে নেয়া যাক-

স্বা’স্থ্যকর অংশ

অনেকেই মনে করেন আপেলের খোসা সবচেয়ে বেশি উপকারী। আ’সলে এই ধারণাটি একদম ভুল। আপেলের একেবারে ভেতরের অংশ, যা আম’রা আপেল কাটার পরে বাদ দিয়ে দেই, আ’সলে সেটিই বেশি উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে যে, আপেলের মূল অংশটি বাইরের অংশের চেয়ে ১০ গুণ বেশি স্বা’স্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ ক’রতে পারে।

গবেষণা

২০১৯ সালে জার্নাল ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজিতে প্র’কাশিত সমীক্ষা অনুসারে, একটি কোর বা মূল অংশে স্বা’স্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা বেশিরভাগ লোকের কাছে উপেক্ষিত। একটি স’ম্পূর্ণ আপেল (কোর সহ) প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া ধারণ করে। যার মধ্যে আপেলের মাংসল অংশে মাত্র ১ কোটি রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, আপেলে পাওয়া ব্যাকটেরিয়া বেশ স্বা’স্থ্যকর এবং অন্ত্রের জী’বাণুগুলোর একটি গু’রুত্বপূর্ণ উৎস। স্বা’স্থ্যকর অন্ত্রে মাইক্রোবায়োটা থাকা সামগ্রিক স্বা’স্থ্যের জন্য ভালো। এটি আমাদের অনেক রো’গজী’বাণু থেকে র’ক্ষা করে। আপেলের কোর-এ প্রোটিন, ফাইবার এবং তেল থাকে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ক্যা’ন্সার বিরো’ধী যৌগতে ভরা।

বীজ গ্রহণের স’ঙ্গে ঝুঁ’কি জড়িত

আপেলের কোর সাধারণত আপেলের বীজে’র কারণেই বাদ দেয়া হয়। আম’রা মূলত ফল বা শাক-সবজির বীজ ফে’লে রাখি কারণ এগুলোতে অ্যামিগডালিন নামে একটি যৌগ থাকে, যা বিষাক্ত বলে বিবেচিত হয়। এই যৌগটি যখন আমাদের পাচনতন্ত্রের সংস্প’র্শে আসে তখন এটি সায়ানাইড নিঃসরণ করে, যা একটি মা’রাত্মক বিষ।

আপেল বীজ কি বিষা’ক্ত?

রো’গ নি’য়ন্ত্রণ ও প্র’তিরো’ধ কে’ন্দ্রসমূহের (সিডিসি) হিসাবে, ১-২ মিলিগ্রাম সায়ানাইডের মৌখিক ডোজ মা’রাত্মক হতে পারে। তবে আপেল বীজে (একটি আপেল) অ্যামিগডালিনের পরিমাণ এই সংখ্যার স’ঙ্গে মেলে খুব কম। শ’রীরে এই পরিমাণ টক্সিন তৈরি ক’রতে প্রায় ২০০টি আপেলের বীজ লাগবে।

আপেল বীজ খাওয়া উচিত?

নিঃসন্দে’হে আপেলের বীজ স’ম্পর্কে এই নতুন গবেষণাটি আ’কর্ষণীয়। তবে এর স’ঙ্গে স’ম্পর্কিত বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কিছু গবেষণা অনুসারে, আপেলের বীজ খাওয়ার কোনো ক্ষ’তি নেই, আবার অন্যরা মনে করেন ফল খাওয়ার আগে এগুলো ফে’লে দেয়া ভালো। তাই আপেলের বীজ খাওয়া নিয়ে কোনোরকম সিদ্ধা’ন্তে যাওয়ার আগে আরো অনেক গবেষণা প্রয়োজন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া