‘হ্যালো রোহান’ বলে গুজব ছড়ানো সেই ডাক্তার আটক

সম্প্রতি করোনাভাইরাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি ৩৫ সেকেন্ডের ভয়েস ম্যাসেজ। যেখানে রোহান নামের এক ব্যাক্তির সাথে কথা বলতে শোনা যায় একজনকে, যিনি পেশায় ডাক্তার বলে মনে হচ্ছিল। অডিওতে রোহানকে সতর্ক করা হচ্ছিল। ওই অডিওতে বলা হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কয়েকদিনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ থেকে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সেই ভয়েস ম্যাসেজটি ছিল গুজব।মৃত্যু নিয়ে গুজব সৃষ্টির অভিযোগে ডা. ইফতেখার আদনান নামের এক ডাক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।

ওই চিকিৎসক চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বলে পুলিশ জানিয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে তাকে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক মোড় থেকে আটক করে পুলিশ। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. ফজলে রাব্বি এ বক্তব্যের কোনো ভিত্তি পাননি বলে গণমাধ্যমকে জানান। এরপরই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুজব সৃষ্টিকারীর সন্ধানে নামে। প্রথমে তারা গুজব সৃষ্টিকারী ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে নগরীর প্রবর্তক মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত ডাক্তার ইফতেখার আদনান চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত রয়েছেন।

আরও পড়ুন=বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ডাক্তার-নার্সদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে যে উদ্বেগ গত কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, আজ একটি হাসপাতালের জারি করা নোটিসে তার যথার্থতা অনেকটাই প্রকাশ হয়ে পড়েছে। ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল কর্মীদের নিজ দায়িত্বে মাস্ক জোগাড়ের জন্য নোটিশ জারি করেছে।হাসপাতালের পরিচালক এক নোটিসে বলেছেন, ‘সম্পদের স্বল্পতার জন্য হাসপাতালের তরফ থেকে সবাইকে মাস্ক সরবরাহ করা যাচ্ছেনা।

এমতাবস্থায় ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সকলকে নিজ উদ্যোগে মাস্ক ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হলো।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিটফোর্ড হাসপাতালের একজন চিকিৎসক একটি জাতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ডাক্তার-নার্সদের নিরাপত্তাকে সরকার আদৌ কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে – এই নোটিস জারির পর তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’ ঢাকার একাধিক হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা গণমাধ্যমটির সাথে কথা বলার সময় পিপিই (পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট) অর্থাৎ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে শুধু যেসব ডাক্তার-নার্সরা প্রথম দফায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হাজির রোগীদের দেখবেন, তাদেরকে পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু ওয়ার্ডে বা অন্যত্র যারা কাজ করছেন- তাদের জন্য কিছুই নেই। নির্ভরযোগ্য সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির গোড়ার দিকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হলেও, তা অনুমোদনে দীর্ঘ সময় নেওয়া হয়।

ফলে, সরকারি দাবি সত্বেও বাস্তবে পিপিই’র মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে ঘাটতি রয়েছে।বেসরকারি হাসপাতালের হাল:বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি অন্তত বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা -কর্মীদের নিরাপত্তার কথাও কথাও সরকারী কর্তৃপক্ষকে ভাবা উচিৎ, কারণ বাংলাদেশে অনেক মানুষই এখন তাদের চিকিৎসার জন্য প্রথমে বেসরকারি হাসপাতালে যান।

কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতি কি?বাংলাদেশের অন্যতম বড় হাসপাতাল বারডেমের সহযোগী অধ্যাপক ড. পুরবী দেবনাথ স্বীকার করেন, চিকিৎসা কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য মাস্ক, গাউনের মত প্রয়োজনীয় উপকরণের স্বল্পতা তার হাসপাতালেও রয়েছে। ‘স্বাস্থ্য কর্মীরা সেবা দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত, কিন্তু তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে পিপিই পাঠানো হচ্ছে বলে খবর পেয়েছি, কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে নিজেদের উদ্যোগে এগুলো কেবল শুরু হয়েছে।’

করোনাভাইরাস নিয়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশে:চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইটালিতে বহু স্বাস্থ্য কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে, ঢাকার অনেক বেসরকারি হাসপাতালে ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী হাজির হলে ডাক্তাররা কাছেই আসছেননা। ঢাকার মিরপুরে একটি বড় বেসরকারি হাসপাতালের সামনে গিয়ে দেখা গেছে সর্দি-কাশি নিয়ে হাজির হওয়া কিছু মানুষকে কর্তৃপক্ষ ঢুকতেই দিচ্ছে না।

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব ছাড়াও, হাসপাতালের অনেক ডাক্তারই সমন্বয়ের অভাবের কথা বলেছেন। সরকার ঢাকার তিনটি হাসপাতালকে – কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল এবং মুগদা জেনারেল হাসপাতাল – করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করেছে। অথচ মুগদা হাসপাতালের একজন সিনিয়র ডাক্তার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই খবর তারা টিভির মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। যদি বড় সংখ্যায় করোনাভাইরাসের রোগী হাসপাতালে আসতে শুরু করে, তাহলে তার জন্য ঐ হাসপাতাল প্রস্তুত আছে কিনা –

তা নিয়ে ঐ চিকিৎসক নিজেই সন্দেহ প্রকাশ করেন।ঢাকায় একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হাজির এক ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা হচ্ছে কী বলছে সরকার?নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিকিৎসা-কর্মীদের এসব উদ্বেগের ব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, যে সব স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনাভাইরাসের রোগীদের চিকিৎসা করবেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা সরকার করবে।

তাহলে মিটফোর্ড হাসপাতালে এমনকি নিজের মাস্কও কেন নিজের দায়িত্বে কিনতে বলা হচ্ছে? এই প্রশ্নে মি. আজাদ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ঐ নোটিস প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পিপিই’র মজুদ একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া, অনেক কেনা হয়েছে, আরও কেনার প্রক্রিয়া চলছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক আজ (শনিবার) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য চীন থেকে আরো সরঞ্জাম অর্ডার করা হয়েছে। এছাড়াও, তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের চিকিৎসা নিয়ে নিয়ে স্থানীয় ডাক্তারদের সাহায্য-পরামর্শের জন্য চীন থেকে অভিজ্ঞ একদল ডাক্তার-নার্স আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

About uzzal

Check Also

দেশের করোনায় মৃত দ্বিতীয় ব্যক্তি সম্পর্কে যা জানা গেল

দেশের দ্বিতীয় যে ব্যক্তিটি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ‍মারা গেছেন, তিনি সরকারি কলেজের একজন অবসরপ্রাপ্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *